| |

লামার ৮টি মণ্ডপে শুরু হয়েছে শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গাপূজা

বিপ্লব দাশ,লামা প্রতিনিধিঃ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। গতকাল শুক্রবার (২০ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন ও দেবীর মুখোন্মোচনের মধ্যে দিয়ে শুরু এই পূজা। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর ও বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের ৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে।

এসব পূজা মণ্ডপে কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় সজ্জিত হয়েছে দেবীদুর্গা সহ অন্যান্য দেবী-দেবতা। আগামী ২৪ অক্টোবর দশমী তিথিতে মাতামুহুরী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে শারদীয় পূজা। 

বিজ্ঞাপন

 এবারের পূজার কেন্দ্রীয় হরি মন্দির মণ্ডপে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত ‘আরতি প্রতিযোগিতা ও ডিসপ্লে প্রদর্শন’।

বিজ্ঞাপন

 পূজায় দেবী দুর্গাকে বরণ করতে উদগ্রীব ভক্তরা তাদের আয়োজনও কম নয়। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের আনন্দ আরো বেশি। নতুন জামা-কাপড় কিনতে কাপড়ের দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে হিন্দু ধর্মালম্বী নারী-পুরুষেরা।পূজায় সার্বিক সহযোগিতা করছে লামা উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ২০২১ সালে উপজেলার কেন্দ্রীয় মন্দির মণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া এবার ভোটের আগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় শ্রী শ্রী দুর্গা পূজার আয়োজন নির্বিঘ্নে করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সর্বোচ্ছ নিরাপত্তার-ব্যবস্থা।

এদিকে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়,বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যশস্যও বরাদ্দ দেওয়া হয়। 

লামা কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবুল দাশ, রতন দত্ত সহ সভাপতি,বিজয় আইচ সাধারণ সম্পাদক ও গোপন কান্তি চৌধুরী অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এই পূজা কমিটি অনুষ্ঠিতব্য সবকয়টি পূজা মণ্ডপ পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এ কমিটির নেতারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় লামা পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মহাষষ্ঠীর দিনে  প্রতিমা প্রদর্শনীর শুভ উদ্ভোধন করেন।
পূজার সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছে  লামা কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড ও সনাতনী যুব সমাজ।

এ বিষয়ে লামা কেন্দ্রীয় দুর্গা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিজয় আইচ বলেন, প্রতি বছরের ন্যয় এবছরও পূজার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে সহযোগিতা পেয়েছি। এই পূজায় শান্তি শৃঙ্খলা বজয় রেখে নিভিঘ্নে দূর্গা পূজা সমাপ্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করে

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.শামীম শেখ জানান, বিগত ২০২১ সালে পূজা মণ্ডপে হামলার ঘটনা মাথায় রেখেই এবারে পূজা উপলক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মণ্ডপে পোষাকধারী ও সাদা পোষাকের পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ ছাড়া ও স্বেচ্ছাসেবকরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করবেন। এছাড়া প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ গুলোর সাথে নিয়মিত আলোচনা চলছে। আশা রাখছি প্রতি বছরের মত এবারও সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে সনাতনীদের এই ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন হবে।
প্রতিটি মণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই